মালয়েশিয়া প্রবাসীকে ধরে নিয়ে লুটপাট, দুই এসআইসহ ৪ পুলিশ রিমান্ডে

নরসিংদীতে এক প্রবাসীকে ধরে নিয়ে তার কাছে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক ও দুই কনস্টেবলসহ গ্রেফতার হওয়া ৭ জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকাতি ও লুটের মামলায় নরসিংদী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আক্তার তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুপম সরকার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম ও গাড়িচালক নুরুজ্জামান মোল্লার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে দুই কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম ও তাদের অপর দুই সহযোগী সাদেক মিয়া ও নূর মোহাম্মদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. সোহেল মিয়া গত ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার এয়ারপোর্ট থেকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে তার স্বজন আব্দুল্লাহসহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়কের সাহেপ্রতাব এলাকার একটি সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেয়ার জন্য চালক গাড়ি থামান। এ সময় অপর একটি প্রাইভেটকারযোগে আসা রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত ও আজহার আলীসহ সঙ্গীয় ফোর্স ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যান।

Loading...

পরে পুরানপাড়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে প্রবাসী সোহেলের কাছে থাকা দুটি স্বর্ণের বার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের গ্রেফতার করা হবে এমন ভয় দেখিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়।

এদিকে এ ঘটনার পর প্রবাসী সোহেলের এক আত্মীয় মো. শাহজাহান পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুর রহমান,উপপরিদর্শক আব্দুল গাফ্ফার ও রুপম সরকার তদন্তে নামেন। এবং তারা ওই সিএনজি পাম্পের সিসিটিভির ফুটেজে ডাকাতির সত্যতা পান।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন, এসআই আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম, সাইদুল ইসলামসহ অন্য তিনজন প্রবাসীদের আটক করে নিয়ে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে গোয়েন্দা পুলিশ এসআই সাখাওয়াত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম, সাইদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

আটকের সময় এসআই সাখাওয়াতের কাছ থেকে ডাকাতির ১৮ হাজার টাকা,এসআই আজহারুল ইসলামের ট্রাঙ্ক থেকে স্বর্ণের বার ও সাদেক মিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে বুধবার রাতেই প্রবাসী সোহেল বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও লুটের মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা ডাকাতির অভিযোগ উঠে, যা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুর রহমান।

সূত্র : যুগান্তর।

About চীপ ইডিটর

View all posts by চীপ ইডিটর →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.