প্রতিবন্ধী ছেলেকে পিঠে নিয়ে এক অসহায় মা: ‘হাটতে কষ্ট হয়, আমার পিঠে করেই সে পৃথিবী দেখে’

ভিড় ভেদ করে বিপরীত দিক থেকে আসছেন এক মহিলা। মহিলাটি কাউকে পিঠে করে টেনে নিয়ে আসছেন। হাতে একটি ব্যাগও আছে। উত্তরবঙ্গগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুঁজছেন, গাইবান্ধা যাবেন।

নিজের পিঠে করে আরেকজনকে টেনে যাওয়ার কারণে মনে হচ্ছে তার দম বন্ধ প্রায়। এরমধ্যে আবার প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইন পার হয়ে ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে। পিঠে একজনকে ঝুলিয়ে নেয়ার কারণে তিনি একা একা পার হতে পারছিলেন না। এ সময় অন্য একজন যাত্রী এসে মহিলাটির ব্যাগ নিয়ে-পিঠে থাকা ছেলেকে ধরে রেললাইন পার হতে সাহায্য করলেন।

কথা বলে জানা গেলো, নিজের পিঠে করে যাকে টেনে আনছেন সে তার শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান সুমন। ২২ বছর ধরে এভাবেই নিজের পিঠে সন্তানকে নিয়ে ঘুরছেন মা সোনা বানু। ৪ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করে চলে তার সংসার। এছাড়া আরও ২ ছেলে-মেয়ে আছে।

তিনি বলেন, এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করে আমাদের সংসার চলে। রাজধানীর মেরাদিয়ায় একটি বস্তিতে ২৭ শত টাকায় ভাড়ায় থাকি। ভিক্ষার টাকায় ভালোভাবে সংসার চলে না, তবুও খেয়ে পরে কোনোরকম বেঁচে থাকার চেষ্টা। জন্ম থেকে আমার এই সন্তান প্রতিবন্ধী, কিন্তু আমি তো তার মা। মা তো আর সন্তানকে ফেলে দিতে পারে না। তাই আমার পিঠে করেই সে ঘুরে, পৃথিবী দেখে। তাকে তুলে খাওয়ানোসহ মলমূত্র সব কিছুই আমার পরিষ্কার করে দিতে হয়। প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কিছুই করতে পারে না।

Loading...

এভাবে ঘুরতে গিয়ে অনেক সময় হাত-পিঠ ব্যথা হয়ে যায়, আর ব্যাথায় পা ফেলতে পারি না। কিন্তু কি আর করার সন্তান তো আমার, আর সে আমার ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে। প্রতিবন্ধী আর পাগল যাই হোক না কেনো আমার কাছে সন্তান সন্তানই। যতই কষ্ট হোক আমাকে তাকে নিয়ে এভাবেই চলতে হবে। আমার এই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য একবার একজন হুইল চেয়ার কিনে দিয়েছিলো, কিন্তু সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আর ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া নতুন করে তাকে কিনে দেয়ারও সামর্থ্য আমার নেই। এ কারণেই এভাবেই ঘুরি। আমার পিঠে ঘুরেই সে পৃথিবী দেখে। এটাই আমার কাছে অনেক আনন্দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.